মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস আরিফ হোসেন (১৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের সৎ বাবাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সোহেল মাহমুদ, মনিরামপুর উপজেলার বালিধা গ্রামের জালাল উদ্দিন গাজীর ছেলে এবং ফুয়াদ হাসান (সৌরভ), পাঁচাকড়ি গ্রামের আশরাফ সরদারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ২ মার্চ ভোর ৫টার মধ্যে যে কোনো সময় শত্রুতার জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আরিফ হোসেনকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি মাছের ঘেরের মধ্যে ফেলে রাখা হয়।
পরদিন সকালে স্থানীয়রা ঘেরের ভেড়ির ওপর রক্তের দাগ ও অন্যান্য আলামত দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বোন জুলিয়া আক্তার বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫)।
ঘটনার পর যশোরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মনিরামপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল অভিযান শুরু করে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে ডিবি যশোরের উপপরিদর্শক অলক কুমার দের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বাগেরহাট জেলার মংলা থানার শেখ আব্দুল হাই সড়কস্থ হাজী শেখ আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলার ৭ নম্বর কক্ষ থেকে প্রধান আসামি সোহেল মাহমুদ ও তার সহযোগী ফুয়াদ হাসান ওরফে সৌরভকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

