নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথির আঘাতে আসামির বাবা আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর থানার এস আই আসাদুজ্জামান, এএসআই আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে বুধবার মধ্যরাতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যায়। ইমরান হোসেনকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ আসামির বাড়ির দরজা ভাঙচুর করে। আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া (৮৫) তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।
আব্দুল হামিদের নাতি রিপন (১২) জানায়, তারা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন, মধ্যরাতে ৫ জন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যায়। সেখান থেকে ওঠার চেষ্টা করে আবারও পরে যায় এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আব্দুল হামিদ অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ ছিলেন, তার নামে কোন অভিযোগ বা মামলা নেই। ছেলে ইমরান হোসেনকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাকে লাথি মারলে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ অন্য আরেকজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এসলামকে গ্রেফতার না করে তাকে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।
ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম জানান, রাতটা একটার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। এ সময় আইডি কার্ডের সাথে তার নামের বানানের মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিনের পরামর্শ দেয়। তিনি আরো জানান, ঘটনার সময় মালাহার পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপি'র সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, আফাজ মাস্টারের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাতুন মাস্টার পুলিশের সাথে থেকে তাদেরকে ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম ও সিরাতুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তারা পুলিশের সাথে ছিলেন না।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ আসামি ধরতে গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু নামের মিল না থাকায় আসামি এসলামকে ছেড়ে দেয়া হয়, অন্য আসামী ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে না পেয়ে অন্য আসামী আসলামের বাড়ি দেখানোর জন্য আব্দুল হামিদকে ডেকেছিলেন। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল হামিদ মারা যান। পুলিশ তাকে কোন আঘাত করেননি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারপরও পুলিশের বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.