Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝিনাইদহ
  13. ঢাকা বিভাগ
  14. তথ্যপ্রযুক্তি
  15. দিনাজপুর
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় বাটার শোরুমে ঢুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা, তিন গ্রুপে সন্ত্রাসীদের মিশন অভিযান

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
মার্চ ৬, ২০২৬ ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা নগরীর ডাকবাংলো মোড়ে একটি জুতার শো-রুমে ঢুকে রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও রূপসা উপজেলার শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডে তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অন্তত আটজন অংশ নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে অশোক ঘোষ নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল এলাকার ২২ তলা ভবনের পাশ থেকে মো. জাবেদ গাজী নামে আরও একজনকে আটক করা হয়।

আটক জাবেদ ওই এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলীর ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অশোক ঘোষকে আসামি করে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে তাকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মাসুম বিল্লার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আছরের নামাজের পর স্থানীয় দারুস সালাম মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারি হেলাল, কেসিসি প্রশাসক ও খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু এবং বিএনপি নেতা মোল্লা খায়রুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম জানান, মাসুমকে হত্যার পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই করা হয়েছিল। হত্যাকারীরা বিভিন্ন সময় সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। বুধবার রাতে সেই সুযোগ পেয়ে তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে তিনটি গ্রুপ কাজ করেছে। একটি গ্রুপ মাসুমের গতিবিধি নজরদারি করে খুনিদের কাছে তথ্য সরবরাহ করছিল। আরেকটি গ্রুপ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে ছিল। অন্য গ্রুপটি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

পুলিশের তথ্যমতে, হত্যা মিশনে আটজন সদস্য অংশ নেয়। তারা প্রথমে গল্লামারি থেকে ময়লাপোতা মোড়ে জড়ো হয়। সেখান থেকে অস্ত্র নিয়ে ডাকবাংলো মোড়ে আসে। সন্ধ্যার পর মাসুম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটার জন্য মার্কেটে আসেন—এই তথ্য পাওয়ার পরই খুনিরা তাকে ধাওয়া করে।
ধাওয়া খেয়ে নিরাপত্তার জন্য মাসুম ডাকবাংলো মোড়ের বাটার শো-রুমে ঢুকে পড়েন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে দুই সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার জন্য অশোক ঘোষকে ৫০ হাজার টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ড শেষে সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, আটক অশোক ঘোষ একজন কনট্রাক্ট কিলার।

এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার জন্য সে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাত ৯টার দিকে খুলনা নগরীর ব্যস্ত ডাকবাংলো মোড়ে বাটার শো-রুমের ভেতরে ঢুকে সন্ত্রাসীরা মাসুম বিল্লাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।