আবিদ হাসান, হরিরামপুর(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে উপজেলার আন্ধারমানিক বাজারে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৯টি দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর মধ্যে ১১টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং আরও ৮টি দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট দেড় ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা চান দানবীরদের কাছে।
ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের মারাত্মক ক্ষতিতে নিঃস্ব হয়েছেন বেশ কয়েকজন দোকানদার। দোকানে থাকা মুদি মনোহারি আসবাবপত্র সবই পুড়ে গেছে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর। মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে মিন্টু দত্ত নামের ডিজেল অকটেন পেট্রোল ব্যবসায়ী।
মিন্টু দত্তের শরীরের একাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইউনিটে তাকে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরাতন এই বাজারটির বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ভাড়ায় দোকান নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। পুরাতনের বাজারটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত বলেও জানা গেছে।
এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি যারা ব্যবসা পরিচালনা করতেন তাদেরকে যেন সহযোগিতা করা হয়। আর দোকান মালিকদের দোকান পুড়ে যাওয়ায় তাদের ক্ষতির পরিমাণ কম হলেও তারাও সহযোগিতা চান। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- বিল্টু দত্তের ডিজেল অকটেন ও পেট্রোল দোকানে থাকা প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। মিন্টু দত্তের দোকানে মজুদ থাকা প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ডিজেল অকটেন পেট্রোল পুড়ে গেছে।
পাশে ইমদাদুল বিশ্বাসের দোকানে থাকা এলপি গ্যাস,চাউল নগদ টাকাসহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। নুর ইসলামের মুদি দোকানে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মুদি মনোহারি পণ্য, মধুসূদন দত্তের প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মুদি পণ্য, সুজনের হোটেলে ৫০ হাজার আর নগদ ৫০ হাজার মোট একলক্ষ টাকা, লালনের ফলের দোকানের ৫০ হাজার টাকা, সুভাষ কুন্ডুর চাউলের দোকানে থাকা লক্ষ টাকার চাউল, দুর্গা মন্দির,বিদ্যুতের মিটার তার, ডিস লাইনের ট্রান্সমিশন তারসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা, গোপালের ফলের দোকানে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ফল, বিষ্ণুর দোকানের প্রায় বিশ হাজার টাকার মত মুদি মনোহারি, মজরউদ্দিনের দোকানের মুদি মনোহারির প্রায় ১০ হাজার টাকা,একটি দুর্গা মন্দির, মেহেরের কাচামাল আর অস্থায়ী বেশ কয়েকটি কাঁচামালের দোকানের প্রায় ১ লক্ষ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব পাওয়া গেছে। এর বেশিরভাগ ব্যবসায়ী স্থানীয় এনজিও থেকে লোন এনে ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলেও জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুজন জানান, হোটেল ব্যবসা করে কোনরকমে দিন পরিচালনা করতেন তিনি। তার যতটুকু সম্পদ ছিল, সবটুকুই আগুনে পুড়ে গেছে। সেই সাথে পুড়ে গেছে আমার স্বপ্ন।
ফল ব্যবসায়ী লালন জানান, বাজারের সবচেয়ে ছোট ব্যবসায়ী আমি। আমার দুই টাকা ক্ষতি মানেই কোটি টাকার সমান। এখন আমার সংসার চালানো আর কিস্তি চালানো দুঃসাধ্য হয়ে গেছে। আমি এখন কি করবো। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন, আমি যেন আবার কোনরকম ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে বেঁচে থাকতে পারি।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে আমরা জেলায় পাঠাবো। সহযোগিতা আসলে আমরা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতাটা পৌছে দিব। আপনারাও সহযোগিতা করবেন।
এরই মধ্যে পরিদর্শন করেছেন, হরিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন, হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় স্থানীয় প্রশাসন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ সকলের কাছে আকুল আবেদন জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.