ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে জামিনে মুক্তি পাওয়া আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞাকে জেলগেটে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেছেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দল নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল।
রোববার (৯ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ম. ম. সিদ্দিক মিঞা। পরে জেলগেটে উপস্থিত হয়ে ফুলের মালা দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল।
জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ইউনিয়ন রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন সিদ্দিক মিঞা। এ আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কারামুক্তির পর সিদ্দিক মিঞা বলেন, “আমার জেলমুক্তির জন্য নবনির্বাচিত এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
এদিকে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা কথা দিয়েছিলাম ভাঙ্গার ইউনিয়ন রক্ষার আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সবাইকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করব। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিদ্দিক চেয়ারম্যান মুক্ত হলো। আমি নিজে জেলগেটে থেকে তাকে রিসিভ করলাম।”
উল্লেখ্য, ভাঙ্গা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচন কমিশন গত ৪ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে। এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি এলাকাবাসী। পরে আলগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞার নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে চার দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয় এবং ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন ভাঙ্গায় মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে পরে উচ্চ আদালতের রায়ে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং গত নির্বাচনে ওই দুই ইউনিয়নের ভোটাররা ফরিদপুর-৪ আসনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

