নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মেশকাতুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে স্থানীয়রা নরোত্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেশকাতুর রহমানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। পরে তারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে তার কাছে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করেন।
কবিরহাট উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মহসিন রিয়াজসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সিরাজ উল্লাহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে পলাতক রয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মেশকাতুর রহমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জন্মনিবন্ধন, পারিবারিক সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা দিতে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার একটি প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নামমাত্র সিসি ঢালাইয়ের কাজ দেখানো হয়েছে, যা নিম্নমানের হওয়ায় এক বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ইউনিয়নে বরাদ্দ পাওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও যথাযথ কাজ না করে বরাদ্দের বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তারা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মেশকাতুর রহমান বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। কিছু স্থানীয় ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় বিজিএফ কার্ডের সুবিধা না পেয়ে এসব অভিযোগ তুলছেন। আমি সরকারি বিধি মেনে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিম বলেন, “এসব প্রকল্প গত অর্থবছরের কাজ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

