রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এ কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বাছবিচার করা হবে না; বরং হতদরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত পাইলটিং পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ড. তিতুমীর বলেন, দেশের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি এ দিনটিকে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নারীর শ্রমের মর্যাদা রক্ষা ও অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকার কৃষকদের কল্যাণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার সুফল প্রায় ৬০ লাখ মানুষ পেয়েছেন। ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ড. তিতুমীর বলেন, আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী একটি খালখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরকার দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে ড. তিতুমীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকড়ী এলাকার ১২০১ জন উপকারভোগীর মধ্যে প্রতীকীভাবে ৫ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

