বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের চাল চুরির অভিযোগ তুলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় উত্তেজিত কয়েকজন ব্যক্তি চেয়ারম্যানকে ঘিরে কিল-ঘুষি মারছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় নিয়ামতি ইউনিয়নের জন্য ২৪ টন চাল বরাদ্দ ছিল। চাল বিতরণের সময় এক টন চাল কম থাকার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ লোকজন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদারকি (ট্যাগ) অফিসার এনামুল জানান, চাল কম থাকার বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এ ঘটনা ঘটে।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, ট্রলারে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এক টন চাল গোডাউনে রেখে দেওয়া হয়েছিল। পরে তা এনে বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির নেতা সোহেল সিকদার চাল চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে লোকজন জড়ো করে তার ওপর হামলা চালান।
অন্যদিকে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভিজিডি কার্ডের এক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শামিম পারভেজ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে চালের বস্তা গণনা করে এক টন চাল কম পান। চেয়ারম্যান তাকে জানিয়েছেন, ওই চাল গোডাউনে রাখা রয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, সরকারি চাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, ঘটনার তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাকেরগঞ্জ থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখা।

