ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যকে অচেতন করে নগদ ২ লাখ টাকা ও প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামের মৃধা বাড়িতে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান মৃধা (৭০) ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরদিন বুধবার সকালে গৃহকর্মী কাজে এসে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন।
পরে প্রতিবেশীরা এসে গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান মৃধা, তার স্ত্রী হাওয়া বেগম (৫৮), ছেলে রিয়াজ হোসেন মৃধা (৩৫) এবং পুত্রবধূ ফারজানা আক্তারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আক্রান্তদের মধ্যে হাওয়া বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গৃহকর্তার জামাতা জুয়েল সিকদার জানান, নতুন ঘর নির্মাণ কাজের জন্য ব্যাংক থেকে তোলা ২ লাখ টাকা ঘরে রাখা ছিল। দুর্বৃত্তরা ঘরের সিন্দুক ভেঙে সেই নগদ টাকা ও প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আক্রান্তরা সুস্থ হলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

