আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলী উপজেলায় বিরোধীয় জমির তালগাছ থেকে রস সংগ্রহকে কেন্দ্র করে আতাহার হাওলাদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চলাভাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আতাহার হাওলাদার ওই গ্রামের মৃত মুনসুর হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের বাসিন্দা ও প্রতিবেশী সাইদুল মৃধা এবং আতাহার হাওলাদারের মধ্যে বাড়ির পাশের একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধীয় জমির ওপর একটি তালগাছ রয়েছে, যেটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র ছিল।
বৃহস্পতিবার আতাহার হাওলাদার তালগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছটি প্রস্তুত করলে বিষয়টি নিয়ে বিকেলে সাইদুল মৃধার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাইদুল মৃধা, তার স্ত্রী আসমা বেগম ও মেয়ে জান্নাতি মিলে আতাহার হাওলাদারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তার ছেলে আলানুর ও কয়েকজন প্রতিবেশীকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে অজ্ঞান অবস্থায় স্বজনরা আতাহার হাওলাদারকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মহুয়া আক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মহুয়া আক্তার জানান, নিহত আতাহার হাওলাদারের শরীরে একাধিক লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সাইদুল মৃধা ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান। রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের ছেলে আলানুর অভিযোগ করে বলেন, “সাইদুল মৃধা, তার স্ত্রী আসমা বেগম ও মেয়ে জান্নাতি মিলে আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বাবাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করে আহত করা হয়। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই।”
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

