রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে ঘুষ বাণিজ্য, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের মামলা দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাহিদুজ্জামান-এর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে নানা অজুহাতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দলিল আটকে রাখা হয়। পরে দালাল ও অফিস-সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।
খুলনা নগরীর বয়রা এলাকা থেকে আসা গোলাম রাসুল অভিযোগ করে বলেন, তিনি তার ক্রয় করা জমি বিক্রি করতে ডুমুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে নানা জটিলতার মুখে পড়েন। পরে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তার কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ডুমুরিয়া উপজেলার মৈখালী সাহস এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল শেখ (পিতা: কাশেম শেখ, মাতা: মোমেনা বেগম) ও তার ভাই মো. আলাল শেখ জানান, তারা তাদের ০.১১ একর জমি বিক্রির জন্য দলিল করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে নানা অজুহাতে দেরি করা হয়।
তাদের জমিটির চৌহদ্দি অনুযায়ী দক্ষিণে গহর আলী শেখ, পূর্বে সরকারি রাস্তা, পশ্চিমে ভদ্রা নদী এবং উত্তরে অন্যান্য জমি রয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো সমস্যা না থাকলেও দলিলে সামান্য ভুল বা বানানের অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, সংশ্লিষ্টদের জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো সমস্যা নেই। উপজেলা নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে তা যাচাই ও সত্যায়িত করা হয়েছে।
এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমার জরুরি চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। তাই জমি বিক্রি করতে এসেছি। কিন্তু অযথা হয়রানির কারণে কাজ করতে পারছি না।”
ডুমুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাহিদুজ্জামান অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের পরে অফিসে আসেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করে দলিলে স্বাক্ষর করার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিল না থাকায় কিছু দলিল রেজিস্ট্রি করা যাচ্ছে না। তার দাবি, ভোটার আইডি করার সময় মুখে দাড়ি না থাকলেও বর্তমানে দাড়ি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একই ধরনের কিছু দলিল পরে গোপনে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলিল লেখকদের মধ্যেও আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
এদিকে সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তিনি নাকি দলিল লেখকদের উদ্দেশে বলেছেন, “আপনারা আমার পক্ষে সাক্ষী দেবেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।”
এ বিষয়ে খুলনা জেলার জেলা রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সরাসরি বদলি করতে পারি না। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে তাদের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ডুমুরিয়া নয়—খুলনার তেরখাদা,বটিয়াঘাটা ও রূপসা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতেও দীর্ঘদিন ধরে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এ অবস্থায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ঘুষের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.