ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত বিএনপি কর্মী তরু মুন্সির (৪৮) মরদেহ নিয়ে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরে এ মিছিল করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল থেকে জামায়াতকে হত্যার জন্য দায়ী করা হয়। শনিবার বেলা ১টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে তরু মুন্সির মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করে জেলা বিএনপি।
এদিকে এ ঘটনায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে জেলা জামায়াত। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তরু মুন্সি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে নারী কর্মীদের দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত তরু মুন্সিকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।
নিহত তরু মুন্সি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ প্রবাসে ছিলেন এবং পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। তার ছেলে শিপন রহমান গান্না ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য। দেশে ফেরার পর তরু মুন্সিও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি দোয়া মাহফিল ও ইফতার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেখানে এসে বাধা দেন। পরে সংবাদ পেয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে এর কারণ জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে জামায়াতের নারী কর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিএনপি কর্মী তরু মুন্সির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে শনিবার দুপুরে নিহত তরু মুন্সির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে নেতাকর্মীরা মরদেহ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঝিনাইদহ মর্গ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ বলেন, নিহত তরু মুন্সি অসুস্থ ছিলেন না। তার মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।
অন্যদিকে একই সময়ে জামায়াত শহরের আলহেরা মোড়ে তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সদর থানা আমীর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, একটি দোয়া মাহফিল ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেখানে এসে বাধা দেন এবং মহিলাদের বোরকা টেনে খুলে ফেলেন। পরে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে এর কারণ জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। নিহত তরু মুন্সিকে কোনো ধরনের আঘাত করা হয়নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন, অতিরিক্ত ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। ঘটনার সময় পড়ে যাওয়ার কারণে তিনি স্ট্রোক করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা চলছে, যা কাম্য নয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, নিহতের ছেলে ৫১ জনসহ অজ্ঞাত ২৫ জনের নামে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.