জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলের হাতে বাবা খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে মা ও বোন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের বফলগাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
নিহত আক্কাস আলী (৫৫) বফলগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। আহতরা হলেন তার স্ত্রী আবেদা বিবি ও মেয়ে সাবানা বেগম। অভিযুক্ত ছেলে গোলাপ হোসেন (৩২)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে গোলাপ হোসেন তার বাবা আক্কাস আলীর কাছে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বাবা মোটরসাইকেল কিনে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে শনিবার ইফতারের আগমুহূর্তে নিজ বাড়িতে গোলাপ হোসেন প্রথমে বাঁশের গোড়ালি দিয়ে বাবাকে মারধর শুরু করেন। পরে দা ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে গুরুতর আহত হন আক্কাস আলী।
বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে গোলাপ হোসেন তার মা আবেদা বিবি ও বোন সাবানা বেগমকেও মারধর করেন। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে গোলাপকে আটক করে এবং আহত তিনজনকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানকার চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বগুড়ার মোকামতলা এলাকায় আক্কাস আলীর মৃত্যু হয়। আহত মা ও মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গোলাপ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তাকে আগে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
প্রতিবেশী বাবলু হোসেন জানান, “গোলাপকে এলাকায় সবাই পাগল গোলাপ নামে চেনে। তার বাবা কয়েকদিন আগে কিছু জমি বিক্রি করেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল কিনতে চাইছিল গোলাপ। না দেওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটায়।”
কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাতে আটক গোলাপ হোসেনকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রোববার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

