জয়পুরহাট প্রতিনিধি
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সারা দেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, কিন্তু জয়পুরহাট সদরের কাশিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এবারের ঈদে সরকারি উৎসব ভাতা বা বোনাস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধের জন্য ইএফটি (Electronic Funds Transfer) সিস্টেমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য বা বিল সাবমিট করতে হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম সময়মতো এটি জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারি উৎসব ভাতার অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী জানান, বছরের এই সময়টিতে তারা ঈদের কেনাকাটা ও পারিবারিক খরচের জন্য উৎসব ভাতার ওপর নির্ভরশীল। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির অবহেলার কারণে এবার তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বোনাস ছাড়া পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে তাদের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের পরিবেশও ঈদের আগে বেশ গুমোট হয়ে উঠেছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অবহেলার কারণে হয়নি। কিছু কারিগরি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সময়মতো ইএফটি সিস্টেমে তথ্য আপলোড করা সম্ভব হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে সদরের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বোনাস না পাওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য জমা না দেওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে বলে ধারণা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধান করা হবে যাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য ভাতা পান।

