বাঁধন হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুর পৌর শহরের দেউড়পাড় চন্দ্রা এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজমের নির্মিত বাগান বাড়ি ‘আলেয়া গার্ডেন’ এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন এই বাগান বাড়িটি বর্তমানে মাদকসেবীদের নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই সেখানে জড়ো হয় মাদকাসক্তদের দল, চলে মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন এবং নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম জামালপুর পৌর শহরের দেউড়পাড় চন্দ্রা এলাকায় প্রায় ৬ একর জমির ওপর তার স্ত্রী আলেয়া আজমের নামে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আলেয়া গার্ডেন’ নামে এই বাগান বাড়িটি নির্মাণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, জমির একটি অংশ কেনা হলেও আশপাশের কিছু জমি দখল করে বাগান বাড়িটি সম্প্রসারণ করা হয়।
বোটানিক্যাল গার্ডেনের আদলে নির্মিত এই বাগান বাড়িতে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ, ওষুধি ও সৌন্দর্যবর্ধক প্রায় দুই শতাধিক প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে এই বাগানের মালিক হিসেবে মির্জা আজমের স্ত্রী আলেয়া আজম প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় পদকও পান।
এখানে বিলাসবহুল আবাসিক ভবন, অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একাধিক ভবন, তিনটি পুকুর, হাঁটার পথ, উন্নত জাতের গরু ও মুরগির খামারসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ছিল। প্রথমে এটি মির্জা আজমের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের অবসর যাপনের জন্য ব্যবহৃত হলেও পরে পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। দর্শনার্থীরা নির্ধারিত প্রবেশমূল্য দিয়ে এখানে প্রবেশ করে সময় কাটাতে পারতেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখানে সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও বনভোজনের আয়োজন করত।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা আলেয়া গার্ডেনে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। ওই সময় বাগান বাড়ির ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েকদিন ধরে সেখানে লুটপাটও চলে। এরপর থেকে জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগান বাড়ির দুটি দ্বিতল ভবন ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবনের চিহ্ন দেখা গেছে। পড়ে আছে মদের বোতল, গাঁজার প্যাকেট ও অন্যান্য মাদকসামগ্রীর অবশিষ্টাংশ। দিনের বেলা স্থানীয় কিছু মানুষ পুকুরে গোসল করতে বা ঘুরতে এলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তখন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট দলে মাদকসেবীরা এসে এখানে আড্ডা জমায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক জানান, আশপাশের কৃষিজমি ও পুকুরের মাছ পাহারা দিতে তারা মাঝে মাঝে রাতে এখানে অবস্থান করেন। তিনি বলেন, “দিনের বেলা স্কুল-কলেজের কিছু শিক্ষার্থী এখানে এসে আড্ডা দেয়। সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা এসে নির্বিঘ্নে মাদক সেবন করে। আগে পুলিশকে খবর দিতাম, কিন্তু এখন আর দিই না।”
স্থানীয় তরুণ সায়ন (২৩) বলেন, “এই জায়গাটি অপরাধের জন্য আদর্শ স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। নিয়মিত তদারকি করা হলে এসব বন্ধ করা সম্ভব।”
আরেক বাসিন্দা রহমত আলী (৪৫) বলেন, “এখন এটি শুধু মাদকসেবীদের আড্ডাখানা নয়, এখান থেকে নতুন মাদকসেবীও তৈরি হচ্ছে। শহর থেকে আসা মাদকাসক্তরা এলাকার যুবকদের মাদক সেবনে উদ্বুদ্ধ করছে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.