যশোর প্রতিনিধি
মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে যশোর পৌর এলাকার বাসিন্দারা। মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো হলেও তাতে কার্যকর ফল মিলছে না বলে জানিয়েছেন খোদ যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান।
রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কালেক্টরেট সভাকক্ষ অমিত্রাক্ষরে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।
পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, বর্তমানে মশা নিধনের জন্য যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তাতে মশা মরছে না। ভালো মানের ওষুধ ব্যবহার করা হলে তা কার্যকর হবে। তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার বিভিন্ন দপ্তরে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পৌরসভার পাশাপাশি পৌরবাসীকেও মশা নিধনে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পৌরসভার ৩০টি রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে নাগরিকদের চলাচলের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। এছাড়া কোনো ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক বাল্ব নষ্ট হলে জানালে তা দ্রুত প্রতিস্থাপন করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, সরকারের নির্দেশনায় প্রতি শনিবার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দপ্তরে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করতে হবে। শুধু নির্ধারিত দিনে নয়, প্রতিদিনই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো নির্মাণাধীন ভবনে ডেঙ্গু মশার প্রজননস্থল পাওয়া গেলে ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও জানান, আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে মুক্তেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দিতে এবং তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকারকে।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, ২০২৫ সালে যশোর জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল অভয়নগর উপজেলায়, এরপর সদর উপজেলায়। বর্তমানে ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর কমে গেলেও অন্তত পাঁচ দিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় ভুয়া ডেন্টাল চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, মুক্তেশ্বরী নদীর যে অংশ দিয়ে শহরের পানি নিষ্কাশন হতো, সেখানে দুই পাশে বিভিন্ন স্থাপনা ও ধানক্ষেত থাকায় নদী খননে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আওয়ালুর রহমান, যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আহমেদ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়াত ও প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।
সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.