কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ঐতিহ্য, আভিজাত্য ও নান্দনিকতার প্রতীক জামদানি শাড়ি এখন তৈরি হচ্ছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। মধুমতী নদীর তীরঘেঁষা উপজেলার পানাইল গ্রামে তরুণ উদ্যোক্তা মোস্তফা রহমানের হাত ধরে গড়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় একটি জামদানি তাঁতপল্লী। এখানে বোনা হচ্ছে স্বপ্ন, সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান, এবং আবিষ্কৃত হচ্ছে সম্ভাবনার নতুন গল্প।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এখানকার কারিগররা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন সূক্ষ্ম নকশার জামদানি শাড়ি বোনার কাজে। কিছু সময় নির্ঘুম রাতও কাটতে হয় তাদের।
উদ্যোক্তা মোস্তফা রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিভিন্ন তাঁতপল্লীতে প্রায় ২১ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালে করোনার সময় বাড়িতে তাঁত স্থাপন করেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন জামদানি বোনা। ধীরে ধীরে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বর্তমানে এখানে ৮টি তাঁতে ১০–১২ জন কারিগর কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এই উদ্যোগ শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ২০–২৫টি জামদানি শাড়ি তৈরি হয়। নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি শাড়ির দাম ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় এক লাখ টাকার মতো আয় হয়। শাড়ির পাশাপাশি এখানে জামদানি থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবির কাপড়ও তৈরি ও বিক্রি করা হয়, যা স্থানীয় ও অনলাইন ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি শাড়ি তৈরি করতে দু’জন কারিগর একসঙ্গে কাজ করেন। নকশা অনুযায়ী একটি শাড়ি তৈরি করতে সাধারণত তিন থেকে দশ দিন সময় লাগে। জটিল নকশার ক্ষেত্রে এটি তৈরি করতে চার মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
স্থানীয়রা মনে করেন, এই উদ্যোগ আলফাডাঙ্গার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এ কে এম মাসুদুল হাসান বলেন, “জামদানি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। পানাইলে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রয়োজন হলে যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, “ব্যক্তি উদ্যোগে জামদানি শিল্প গড়ে ওঠা অত্যন্ত ইতিবাচক। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
উদ্যোক্তা ও কারিগররা আশা করছেন, যথাযথ সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে আলফাডাঙ্গাতেই বড় পরিসরে জামদানি শিল্প গড়ে উঠবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পও নতুন দিগন্তে পৌঁছাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.