
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
গ্রীষ্মের তাপদাহ ও পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে বরগুনার আমতলীতে এ বছর আগাম তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হওয়ায় অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
প্রতিদিন ভোর থেকে কৃষকরা ক্ষেত থেকে তরমুজ সংগ্রহ করে ট্রাক, ট্রলি, টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে আমতলীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছেন। বাজারে ফলের দোকান, সড়কের পাশ ও কাঁচাবাজারে রসালো তরমুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। ভ্যানগাড়িতেও বিক্রি হচ্ছে জনপ্রিয় এই মৌসুমি ফল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমতলীতে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ ৭ হাজার ৭২৫ টন। মৌসুমের শুরু থেকে ঝড়-বৃষ্টির অভাব থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান জানান, তরমুজে ভিটামিন এ, বি, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ রয়েছে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রচুর পানি থাকায় রোজায় ইফতারের পর পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক। তিনি ইফতারে পরিমিত তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন।
মঙ্গলবার সকালে আমতলীর নতুন বাজার চৌরাস্তায় ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দু’পাশসহ বাজারের প্রায় সব দোকানেই তরমুজের আধিক্য। বিক্রিও ভালো হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
গুলিশাখালী গ্রামের কৃষক শাহিন গাজী জানান, চার বন্ধু মিলে ১০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন। ইতোমধ্যে ২১ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে এবং আরও প্রায় ৬০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন।
চাওড়া ইউনিয়নের কৃষক লিটন সিকদার বলেন, ১৫ বিঘা জমিতে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় খরচ বাদে ১০-১২ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ৩৩ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। তিনি জানান, ফলন ভালো হয়েছে এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হবে। পাইকাররা ইতোমধ্যে ক্ষেতেই তরমুজ কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
নতুন বাজার এলাকার আড়ৎদার মো. আব্দুস ছালাম জানান, ছোট ও মাঝারি আকারের তরমুজ ১৮০-২০০ টাকা এবং বড় তরমুজ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকেও প্রচুর তরমুজ বাজারে আসছে, ফলে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
ক্রেতা আলী হোসেন বলেন, দাম সহনীয় হওয়ায় ২-৩ দিন পরপর তরমুজ কিনছেন। রিকশাচালক জসিমও জানান, দাম কম থাকায় মাঝে মাঝে সন্তানদের জন্য তরমুজ কিনে নিয়ে যান।
উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, তরমুজে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সঠিক পরিচর্যা করলে তিন মাসের মধ্যেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, আমতলীতে ধানের পর দ্বিতীয় প্রধান ফসল হিসেবে তরমুজের আবাদ বাড়ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন বেশি হয়েছে এবং রমজানে চাহিদা থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ফলে চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে কৃষকদের ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.