কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে একটি পরিবারের গরু নিহতসহ বসতঘর ও গোয়ালঘর ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পরিবারটি চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।
উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হড্ডা গ্রামের বাসিন্দা রামপদ মণ্ডলের স্ত্রী অনিতা মণ্ডল জানান, রাতে ঘূর্ণিঝড়ের বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি স্বামীকে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে টর্চলাইট দিয়ে আশপাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। প্রথমে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দ শুনে সন্দেহ হয়। পরে টর্চলাইট মেরে দেখতে পান তাদের গোয়ালঘরটি আর দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “চিৎকার শুনে আমরা প্রতিবেশীদের নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখি গোয়ালঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ভেতরে থাকা গরুগুলো চিৎকার করছিল। অনেক কষ্টে একটি গরু ও একটি বাছুরকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একটি গরু মারা যায়।”
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনিতা মণ্ডল। তিনি জানান, প্রায় ২৪ বছর ধরে তিনি গরু পালন করে আসছেন। তার তিন সন্তানও গরুগুলোর দেখাশোনায় সহযোগিতা করে। “কোনদিন ভাবিনি চোখের সামনে এভাবে গরুটি মারা যাবে,” বলেন তিনি।
ঘূর্ণিঝড়ে শুধু গরুই নয়, তাদের রান্নাঘর ও গোয়ালঘরও বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে গবাদিপশু রাখার জায়গা না থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামতের মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাস মণ্ডলসহ অন্যরা জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিতা মণ্ডলকে ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনি ভাঙা গোয়ালঘর কীভাবে মেরামত করবেন এবং গরুগুলো কোথায় রাখবেন তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য উত্তম কুমার মণ্ডল বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে তার ওয়ার্ডের প্রায় অর্ধশতাধিক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। “অনিতা মণ্ডলের গরু মারা যাওয়ায় এবং ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় তিনি একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন,” বলেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.