নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পূর্বাহ্নে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাঁর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর ধারা ১২ (১) অনুযায়ী তাঁকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত উপাচার্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ আমার জন্য গৌরবের। দেশের বৃহত্তম উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গতিশীল, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব। শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর দূরশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বাউবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার গলাচিপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘নবাবী বাংলার রাজনীতি ও অভিজাত শ্রেণী’।
১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে বর্তমানে তিনি অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি কলা অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও স্যার পি জে হারটগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গবেষণায় তিনি আধুনিক মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ক্রমবিকাশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তাঁর ৩৫টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশের ইতিহাস ১৯৭২-২০১৪, নবাবী বাংলার অভিজাত শ্রেণী, উসমানী সালতানাত, মুঘল ভারতের ইতিহাস প্রভৃতি।
তিনি নিয়মিত জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে লেখালেখি করেন এবং বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে অংশ নেন। বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (২০১১–২০১৬) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্তমানে ‘ইতিহাস’ গবেষণা জার্নালের সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাপিডিয়ার ম্যানেজিং এডিটর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ড. আলো আরজুমান বানুর স্বামী এবং এক পুত্র ও এক কন্যার জনক।
বাউবির উপাচার্য হিসেবে তাঁর নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও দূরশিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত ও আধুনিক হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.