মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায়ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে ভোর থেকে জ্বালানি নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতির কারণে মোটরসাইকেল চালকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি কাজেও যেতে পারছেন না অনেকে।
অন্যদিকে কৃষকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। সেচ কাজের জন্য ডিজেলের প্রয়োজন হলেও তারা চাহিদার তুলনায় খুবই অল্প পরিমাণ তেল পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন কৃষককে মাত্র ৫ লিটার ডিজেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে সেচ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে চলতি মৌসুমের ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, তেলের সংকটের কারণে পরিবহন ও কৃষি—উভয় খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
রহিমা ফিলিং স্টেশনের মালিক নজরুল ইসলাম মিল্টন জানান, তাদের পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার লিটার অকটেন, ৩ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ১৫ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় চাহিদা প্রায় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প তেলের অভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই অতিরিক্ত তেল মজুদ করায় সংকট আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষ মজুদ করা বন্ধ করলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
উপজেলার অন্তত ছয়টি তেল পাম্পে একই চিত্র দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.