যশোর প্রতিনিধি
যশোর শহরের দুটি ফিলিং স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শন করে অনিয়মের অভিযোগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে প্রতিমন্ত্রী প্রথমে শহরের মণিহার প্রেক্ষাগৃহ সংলগ্ন যাত্রীক পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দৈনিক তেল বিক্রির হিসাব, খাতা ও ভলিউম বুক দেখতে চান। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত রেকর্ড উপস্থাপন করতে পারেনি পাম্প কর্তৃপক্ষ।
পাম্প সূত্রে জানানো হয়, তারা প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার লিটার পেট্রল ও তিন হাজার লিটার ডিজেল পান এবং তা বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু বিক্রির মেমো দেখাতে বলা হলে তা দেখাতে ব্যর্থ হন তারা। এ সময় পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি রিজার্ভ ট্যাংক পরিদর্শন করে সকল গ্রাহক যাতে তেল পান, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
যাত্রীক পেট্রোলিয়ামের ম্যানেজার সুবোধ কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিমন্ত্রী হঠাৎ করে পাম্পে এসে খাতাপত্র ও মেমো দেখতে চান। তবে অনেক গ্রাহক মেমো নিতে আগ্রহী না হলেও প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন মেমো সংরক্ষণ করতে হবে।
পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী ঢাকা রোডের তালতলা এলাকার মেসার্স মনিরউদ্দিন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। সেখানেও প্রতিদিনের তেল বিক্রির বিস্তারিত রেকর্ড না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, বিক্রির তথ্য মেশিনে সংরক্ষিত থাকে, আলাদা করে খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয় না।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মেমো না দিলে তেল কার কাছে বিক্রি হচ্ছে তা যাচাই করা সম্ভব নয়। এটি একটি গুরুতর অনিয়ম। এই পাম্পের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে।” তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানকে ফোন করে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তেল থাকা সত্ত্বেও অযথা মজুদের অভিযোগ পেয়ে কয়েকটি মোটরসাইকেলের ফুয়েল ট্যাংকও পরীক্ষা করেন। যাদের ট্যাংক খালি, তাদের তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে, মেসার্স মনিরউদ্দিন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মেহেদী হাসান কাজল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের পাম্পে কোনো অনিয়ম হয় না। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন যমুনা অয়েল থেকে সরবরাহকৃত তেল নিয়মিত বিক্রি করা হয় এবং বিক্রির তথ্য মেশিনে সংরক্ষিত থাকে। খাতায় প্রতিটি লেনদেন লিপিবদ্ধ করা বাস্তবে কঠিন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেলে তেল ভরে মজুদের প্রবণতা বাড়ায় চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তারা দাবি করেন, পাম্প থেকে যানবাহন ছাড়া অন্য কোথাও তেল বিক্রি করা হয় না।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.