মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের কেটরা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর ২৯ মার্চ (রবিবার) শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হলেও দেখা গেছে ব্যতিক্রম এক চিত্র। বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালীন সময়েই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বারান্দা সহ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আলুর অস্থায়ী হাট বসার ঘটনা সামনে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ ঘটিকার সময় বিদ্যালয়ের বারান্দা ও খোলা জায়গাজুড়ে আলুর বস্তার স্তূপ পড়ে আছে। ভ্যান নসিমন, সাইকেল ও অটোযোগে ব্যবসায়ীরা ছোট টলি গাড়িতে করে আলু এনে বিদ্যালয়ের ভেতরেই বেচাকেনায় ব্যস্ত। একই সময়ে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শিক্ষকরা অবস্থান করছিলেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলিত ছিল। তবে শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়ী ও ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবেল ইসলাম বলেন,“আমি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিদ্যালয়ে এসে দেখি কিছু আলুর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ভেতরে হাট বসিয়ে ফেলেছেন। আমি তাদের নিষেধ করি এবং সরিয়ে নিতে বলি, তবে তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি সরানো হয়নি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মন্ডল বলেন,“বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা বলেন,“ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময় থেকেই নির্দিষ্ট দিনে এখানে অস্থায়ী হাট বসে আসছিল।এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে। তারা বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তদারকি ও ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর ছিল—এ প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একইসাথে, হাট পরিচালনার সাথে জড়িতদের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এমন ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.