আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। নির্ধারিত সরকারি ফি থাকলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন।
সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে কৌশলে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। লাইসেন্স পেতে সরকারি নির্ধারিত টাকার চেয়ে পাঁচ, সাত, কখনো কখনো আবার দশ হাজার টাকা বেশি দিতে হয়। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন অফিসের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। যারা দালালের ভূমিকায় কাজ করেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অফিসের বাইরে দৃশ্যমান কোনো দালাল চক্র না থাকলেও ভেতরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীই এই অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দ্রুত সেবা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লাইসেন্স নবায়নের জন্য যেখানে নির্দিষ্ট ফি নির্ধারিত, সেখানে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কয়েকশ’ টাকার কাজ করতে গুনতে হচ্ছে কয়েক হাজার টাকা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় নানা ধরনের হয়রানি—ফাইল আটকে রাখা, বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে হয়রানি করা হয়। বাড়তি টাকায় চুক্তি করলে সব তাড়াতাড়ি হয়।
রবিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় একশত যুবক লাইসেন্স সেবা নিতে প্রাকটিকাল ও ভাইভা দিতে মুন্সীগঞ্জ বিআরটিএ অফিসে এসেছেন। প্রায় ৯০ শতাংশ যুবক সরকারি নির্ধারিত ফি এর চেয়ে বেশি টাকায় লাইসেন্স পেতে চুক্তি করছেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া এবং নবায়ন করতে আসা বেশিরভাগ মানুষজনই মামুন নামে এই ব্যাক্তির নাম প্রকাশ করছেন।
লাইসেন্স করতে আসা ইয়াসিন নামের একজন জানায়, এই অফিসের ফিঙ্গার নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন মামুন। আমি তার কাছে দশ হাজার টাকা জমা দিয়েছি।
এ বিষয়ে বিআরটিএ অফিসের মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি মাত্র ৭ মাস হলো এখানে যোগদান করেছি৷ আমি তো ফিঙ্গার সেকশনে কাজ করি। আমার সাথে কারো কোন লেনদেন নেই। আপনার ভূল হচ্ছে হয়তবা। এ কথা মোবাইলের লাইন কেটে দেন।
মুন্সীগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইন্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ জানান, টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমার জানা নেই। মামুন আমাদের এখানে প্রজেক্টের আওতায় কাজ করে। সে পারমানেন্ট না। তার বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ পাওয়া যায়। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বিআরটিএ-এর অধিকাংশ সেবা এখন অনলাইনে চালু রয়েছে। bsp.brta.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরকারি ফি সরাসরি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেকেই এই সুবিধা সম্পর্কে অবগত নন বা জটিলতার ভয়ে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। দালাল ও অসাধু কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.