যশোর প্রতিনিধি
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা ‘মিটার চার্জ’ প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে যশোরের গ্রাহকদের বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা গ্রাহকবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
যদিও এখনো এ সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারছেন না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্প্রতি জানান, প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য ও জনবান্ধব করতে মাসিক মিটার চার্জ সম্পূর্ণভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)-এর আওতায় যশোর জেলায় প্রায় ৫৬ হাজার ৯৮৯টি প্রিপেইড মিটার চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ৯৯৪টি সিঙ্গেল ফেজ এবং ২ হাজার ৯৯৫টি থ্রি-ফেজ মিটার।
এসব মিটারের বিপরীতে সিঙ্গেল ফেজ গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ গ্রাহকদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে মিটার ভাড়া নেওয়া হয়। সেই হিসেবে প্রতি মাসে মোট আদায় হয় প্রায় ২৯ লাখ ৮ হাজার ৫১০ টাকা। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ১২০ টাকা।
মিটার ভাড়া প্রত্যাহার করা হলে এই পুরো অর্থ গ্রাহকদের পকেটেই থেকে যাবে, যা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সব গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার ভাড়া আদায় করা হয় না। যেসব গ্রাহক নিজেরা মিটার ক্রয় করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ চার্জ প্রযোজ্য নয়। শুধুমাত্র যেসব মিটার কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেই ভাড়া আদায় করা হয়।
অন্যদিকে, গ্রাহকদের আরেকটি বড় অভিযোগ ‘ডিমান্ড চার্জ’ নিয়েও আলোচনা চলছে। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৯০ টাকা করে ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়। এটিও প্রত্যাহার করা হলে গ্রাহকদের আরও বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
যশোর শহরের বিভিন্ন গ্রাহক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, মিটার স্থাপনের সময় এককালীন অর্থ পরিশোধের পরও মাসিক ভাড়া আদায় করা অযৌক্তিক ছিল।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, এখনো অফিসিয়াল নির্দেশনা না এলেও নির্দেশনা পাওয়া গেলে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটার থেকে স্বয়ংক্রিয় চার্জ কেটে নেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে দেশে প্রিপেইড মিটার চালু হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে এটি স্থাপন করা হয়। এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা আগাম অর্থ পরিশোধ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, যা বিল বকেয়া কমানো ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সহায়ক হলেও অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.