আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বাম্পার ফলন হলেও ক্রেতা সংকটের কারণে আমতলীর তরমুজ চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এই পরিস্থিতিতে চাষিরা অন্তত শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
জানা গেছে, এ বছর আমতলীতে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যক্রমে ধার্য ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টরের চেয়ে বেশি। আবহাওয়ার সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু বড় ক্রেতাদের অভাবে স্থানীয় বাজারে বিক্রির চেষ্টা করেও চাষিরা সমস্যার মুখে পড়েছেন। এতে উৎপাদিত তরমুজের একটি বড় অংশ উদ্বৃত্ত থাকছে।
হলদিয়া, চাওড়া, আঠারোগাছিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষিরা জানিয়েছেন, অনেকেই তরমুজ কেটে খেতে রেখেছেন, তবু বিক্রি করতে পারছেন না। হলদিয়া গ্রামের চাষি আল আমিন বলেন, “৫ লাখ টাকায় তিন হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ক্রেতা সংকটে বিক্রি করতে পারছি না; লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না।”
চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের চাষি মামুন মোল্লা ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষি শাহিন সিকদার বলেন, পাইকারের অভাব এবং কম দামের কারণে তাদের তরমুজ বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে খরচও উঠছে না।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, “উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবে না। বড় ব্যবসায়ীদের তরমুজ ক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “চাষিরা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের জন্য ভালো দামে তরমুজ বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
এ পরিস্থিতিতে চাষিরা আশঙ্কা করছেন, যদি বড় ক্রেতাদের আগমন না হয়, তবে এই মৌসুমে তারা বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.