ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক যুবতীকে (২৭) ধর্ষণের অপরাধে জামান খালাসী (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই যুবতী দাম্পত্য কলহের জেরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিবেশী জামান খালাসী ও তার এক সহযোগী তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি ফসলি মাঠে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিরাজ হোসেন ২০১৮ সালের ১৮ জুন জামান খালাসীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত জামান খালাসীকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেন। তবে মামলার অপর অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে এই দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ ধারায় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। যেহেতু রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন, তাই আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।”
দণ্ডপ্রাপ্ত জামান খালাসী ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ এখন তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

