রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় বাসের জন্য অপেক্ষারত এক নারীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় রাশেদুজ্জামান রাশেদ (২৮) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মামলার অপর দুই আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে পাংশা শহরের দত্ত মার্কেট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে রাশেদকে গ্রেফতার করা হয়। সে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের ধানুড়িয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে এবং মামলার ২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী গত ৩০ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে পাংশায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে পাংশার মৈশালা বাসস্ট্যান্ডের পারনারায়নপুর এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় রাশেদ, হাসিবুর রহমান অন্তর (১ নম্বর আসামি) ও মাইক্রোবাস চালক বরকত মুন্সি তাকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর চলন্ত মাইক্রোবাসের পেছনের সিটে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
পরে অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগী নারী কুষ্টিয়া সদর থানায় যোগাযোগ করলে তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে ভুক্তভোগী নারী পাংশা মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাশেদকে গ্রেফতার করে।
আজ বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে রাজবাড়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেখ মইনুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানায়, পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

