হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রমে নিয়োজিত হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রমিকদের দুই সংগঠন—রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৯১ ও ৯২৫—এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দরের ২৬ নম্বর শেডের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি এবং সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন ৮৯১-এর দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দরের পণ্য খালাশ কার্যক্রমে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না। ফলে শ্রমিকরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কোনো শ্রমিক আহত বা নিহত হলেও তাদের খোঁজখবর নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। পরিচালক (ট্রাফিক) মো. সামীম হোসেনের মাধ্যমে স্মারকলিপিটি জমা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে ম্যানুয়াল, ক্রেন, ফর্কলিফটসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিচালনাকারী ঠিকাদাররা শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন।
শ্রমিকরা আরও জানান, টনভিত্তিক মাসিক বিল নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হলেও ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি বন্দরের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে বন্দরের ম্যানুয়াল, ক্রেন, ফর্কলিফট ও অন্যান্য ইকুইপমেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত সকল পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন ৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি, ইউনিয়ন ৮৯১-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।
স্মারকলিপির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কাস্টমস কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

