চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর চারঘাটে সরকারি মাদ্রাসার পুকুরের মাটি লুটের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে বেধড়ক মারপিট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতাসহ তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে চারঘাট মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিক শাহিনুর রহমান সুজন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার চারঘাট উপজেলা প্রতিনিধি।
অভিযুক্তরা হলেন চারঘাট পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আলমগীর হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি। তারা দুজনেই চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুলের অনুসারী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর সরকারি মাদ্রাসার পুকুর থেকে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তদের সহযোগীরা অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে “রাতের আঁধারে সরকারি মাদ্রাসার মাটি লুট” শিরোনামে একটি অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক শাহিনুর রহমান। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থলে দুটি এক্সকাভেটর মেশিন অকেজো করা হয়।
অভিযান শেষে প্রশাসনের কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে মনিরুল ইসলাম ফোনে সাংবাদিক শাহিনুর রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে ওই কলের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান শাহিনুর রহমান।
এরপর রাত প্রায় ৯টার দিকে চারঘাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বসে থাকা অবস্থায় শাহিনুর রহমানের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন ও মনিরুল ইসলাম মনির নেতৃত্বে ৫-৬ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা কর। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, “বাঁশ ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়েছে। আমরা দ্রুত এগিয়ে না গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।”
আহত সাংবাদিক শাহিনুর রহমান বলেন, “সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাকে টার্গেট করে হামলা করা হয়েছে। এখনো প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন তুহিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে চারঘাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হক বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। দলের ভেতরে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুল বলেন, আমি কয়েকদিন যাবত একটি কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। বিষয়টি জেনে আমি নিজেও দুঃখ পেয়েছি। আমি এলাকায় এসে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
চারঘাট-বাঘা আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

