তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালায় ২য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগে রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাসেমকে স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। ভুক্তভোগী শিবাঙ্গী বাছাড় ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং রায়পুর গ্রামের সজল বাছাড়ের মেয়ে।
শিবাঙ্গীর মা দীপা বাছাড় জানান, স্কুল থেকে মেয়ের কান্নার খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে গেলে দেখেন, মেয়ের পিঠে আঘাতের চিহ্ন ও শরীরে লালচে দাগ রয়েছে। কানে আঘাতের কারণে রক্ত বের হয়েছে এবং মুখে ফোলা দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গণিত পরীক্ষা নেন। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় শিক্ষক শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে ছাত্রীকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত ছাত্রী শিবাঙ্গী বাছাড় বলেন, “স্যার আগে না জানিয়ে অংক পরীক্ষা নেন। আমি না পারলে স্যার আমাকে মুখে, পিঠে ও কানে মারেন।” স্থানীয়রা আরও জানান, হাসেম মাষ্টারের বিরুদ্ধে পূর্বেও ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জি এম আবুল হাশেম জানান, “শিক্ষার্থীকে দুইটি চড় লেগে গেছে।”
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল রহমান বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” খলিলনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ মণ্ডল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেছে।

