দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে সুজন আলী (৩২) নামে এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম ও নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। হাত-পা বেঁধে ও মুখে গামছা ঢুকিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতন করা হয়।
বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৩ মার্চ সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ পূর্বপাড়া গ্রামে নির্মম নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনে শিকার সুজন আলী একই গ্রামের উকিল ফকিরের ছেলে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে সুজন আলী তার ঘাসের জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় কয়েকজন লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে জোরপূর্বক হাত-পা বেঁধে এবং মুখে গামছা ঢুকিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেরেক ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়। পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তাকে। একপর্যায়ে সুজন আলী নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয় লোকজন আশংকাজনক অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় সুজন আলীর দুলাভাই ছানারুল ইসলাম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া বিষা (৬৫), তার ছেলে হাসানুর রহমান বাবু (৪২), নাতি মো. বাপ্পি (১৯), স্ত্রী পানছুরা খাতুন (৬০), গরুড়া এলাকার মো. মদন (৫০) ও তার ছেলে মো. মিনার (২৮)-সহ আরও অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সুজন আলীর মামা শফিরুল ইসলাম জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মম ও নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

