উত্তম শর্মা, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় একই গাছে আলু ও টমেটো উৎপাদনের এক অভিনব সফলতা অর্জন করেছেন রনজিৎ চন্দ্র কীর্তনীয়া। তার উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিতে গাছের মাটির নিচে ফলছে আলু এবং উপরের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, সবুজ ও হলুদ রঙের টসটসে টমেটো।
বীরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসুন্ধরা এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদ বাগানে টবে ‘সাইব্রিড প্লান্ট পোমাটো’ উৎপাদন করে তিনি এ সফলতা দেখিয়েছেন। গ্রাফটিং পদ্ধতির মাধ্যমে একই গাছে দুই ধরনের সবজি উৎপাদনের এই কৌশলকে তিনি নাম দিয়েছেন ‘সাইব্রিড প্লান্ট’।
রনজিৎ চন্দ্র কীর্তনীয়া ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহী তিনি পরবর্তীতে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন।
শিক্ষাজীবনেই এ ধরনের চাষাবাদ পদ্ধতির ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরে তা বাস্তবে প্রয়োগ শুরু করেন।
কাজের ফাঁকে নিজের ছাদ বাগানে নিয়মিত নতুন নতুন চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ‘পোমাটো’ উৎপাদনে সফলতা পান। এছাড়াও তিনি বেগুন গাছেও গ্রাফটিং করে টমেটো চাষে সফল হয়েছেন।
রনজিৎ চন্দ্র কীর্তনীয়া জানান, “দুটি ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্ট মিলনের মাধ্যমে যে নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয় তাকে সাইব্রিড প্লান্ট বলা হয়। আমি টমেটো ও আলু গাছের গ্রাফটিং করে পোমাটো উৎপাদন করেছি। এতে একই গাছে মাটির নিচে আলু এবং উপরে টমেটো পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে এর জেনেটিক ভ্যারাইটি তৈরি হলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই পদ্ধতিতে খরচ তুলনামূলক কম হলেও ফলন ভালো হয়েছে। দেশে চাষযোগ্য জমি কমে আসছে, তাই একই গাছে একাধিক ফসল উৎপাদন সময়োপযোগী। এতে বাড়তি পরিচর্যার ঝামেলাও নেই এবং একই জৈবসার ব্যবহার করা যায়।”
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “গ্রাফটিং পদ্ধতির মাধ্যমে আলু ও টমেটো গাছের চারা জোড়া লাগিয়ে ‘পমেটো’ বা ‘টমালু’ তৈরি করা সম্ভব। যেহেতু এ দুটি ফসল একই গোত্রভুক্ত (Solanaceae), তাই এদের গ্রাফটিং সফল হয়। ফলে একই গাছের নিচে আলু এবং উপরে টমেটো উৎপাদন করা যায়।”
তিনি আরও জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই গাছে একাধিক ফসল উৎপাদন কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

