কচুয়া(বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর তীব্র সংকটে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সেবাকেন্দ্রগুলোতে পিল, কনডম, ইনজেকশন ও ইমপ্লান্টের মজুদ না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের নারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক ৪টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ২৬ জন মাঠকর্মী থাকলেও প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় তারা নিয়মিত সেবা দিতে পারছেন না। আগে এসব মাঠকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে পিল ও অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ করলেও বর্তমানে সংকটের কারণে সেই কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় একাধিক নারী জানান, তারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা ইনজেকশন নিতে পারেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “অনেক আশা নিয়ে পিল নিতে এসেছিলাম, কিন্তু বলা হয়েছে মজুদ নেই।” একই অভিযোগ করেন আরেক নারী ও এক কলেজ শিক্ষক, যারা জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন নিতে এসে খালি হাতে ফিরেছেন।
কচুয়া সদর ক্লিনিকের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বিজলী বলেন, “প্রতিদিন অনেক নারী-পুরুষ সেবা নিতে আসছেন, কিন্তু মজুদ না থাকায় কাউকে কিছু দিতে পারছি না। এতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, যা আমাদের নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা চলছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়বে। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বাজার থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কেনা সম্ভব না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুল বসির খান জানান, “বর্তমানে সারা দেশেই জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট রয়েছে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেমিনারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।”
তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কচুয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.