একে মিলন সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চলছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চার লেন প্রশস্তকরণ প্রকল্প। তবে এই উন্নয়নই এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়কের ঠিক মাঝখানে শত শত বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ, যা পরিণত হয়েছে একেকটি মরণফাঁদে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সড়কের মাঝখানে থাকা পিডিবির এই খুঁটিগুলো স্থানান্তরের জন্য কয়েক মাস আগেই বিদ্যুৎ বিভাগকে ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছে সওজ।
নিয়ম অনুযায়ী টাকা পাওয়ার পরপরই কাজ শেষ করার কথা থাকলেও, বিদ্যুৎ বিভাগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসিতে কাজ ঝুলে আছে।
৯ই মার্চ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন প্রশস্ত করা সড়কের কোথাও মাঝখানে, আবার কোথাও বিপজ্জনক মোড়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। খুঁটিগুলোকে পাশ কাটিয়েই চলছে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। রাতের অন্ধকারে দ্রুতগামী যানবাহনগুলো এসব খুঁটির কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে।
সওজ-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল হামিদ বলেন, “আমরা অর্থ পরিশোধ করে বারবার তাগাদা দিচ্ছি। কিন্তু খুঁটি না সরানোয় প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।”
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ আশ্বস্ত করে বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ চলছে। পশ্চিম পাশের ৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। লোডশেডিং ও জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে সওজ-এর সাথে সমন্বয় করে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করা হবে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ব পাশের কাজও সম্পন্ন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই অবস্থাকে সরকারি সমন্বয়হীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
তাদের দাবি, কোনো বড় প্রাণহানি ঘটার আগেই যেন দ্রুত এই মরণফাঁদগুলো অপসারণ করা হয়। উন্নয়ন যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর মৃত্যুর কারণ না হয়, এটাই এখন সুনামগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।

