যশোর প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ঝড়-বৃষ্টিতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় বজ্রপাতে মশ্মিনগর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান সরদার নিহত হন। তিনি প্রতিদিনের মতো মাঠে কাজ করতে গিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত কয়েকদিনের তীব্র গরমের পর দুপুরে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি। এতে রাজগঞ্জসহ আশপাশের এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে। বহু ঘরের চাল উড়ে গেছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে, রাস্তায় গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মশ্মিনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা, ঝাঁপা, হরিহরনগরসহ একাধিক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর, ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর তথ্যমতে, অন্তত ১৬টি বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে গেছে এবং বহু স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। কর্মীরা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিখাত। পাকা বোরো ধান মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে, অনেক জমির ধান হেলে পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধানের একটি বড় অংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মৎস্য ঘেরের মধ্যে আবাদকৃত ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধানক্ষেতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে আম ও কাঁঠালের মুকুল ঝরে পড়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শাহাপুর বাজারের শতবর্ষী একটি বটগাছ উপড়ে পড়েছে।
কেশবপুরে ঝড়ে আহত হয়ে অন্তত ৯ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, অন্তত ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, কিছু এলাকায় ধান হেলে পড়লেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের জানান, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.