মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আলোচিত সোহাগ শেখ হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোল্লাহাট বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন সোহাগ শেখ। পথে পান বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে, ৭ মার্চ রাতে সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নুর ইসলাম (২৭) একই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ইয়াসিন বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল পুলিশ বাপ্পী মল্লিক ওরফে ‘ব্ল্যাক বাপ্পী’ (৩২) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং পূর্বে ২০১৬ সালের একটি হত্যা মামলার আসামি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পী মল্লিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, সোহাগ শেখের বোন হত্যা মামলার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। ওই মামলায় সোহাগ বাদী ছিলেন এবং তার ভগ্নিপতি মাহামুদ শিকদার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০১৬ সালে কারাগারে থাকাকালীন মাহামুদের সঙ্গে বাপ্পীর পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই সোহাগকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে মোট পাঁচজন অংশ নেয়। বাপ্পী একটি মোটরসাইকেলে একা ছিলেন এবং তিনি গুলি করেননি বলে দাবি করেন। অন্য দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজনের মধ্যে দুজন সোহাগকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। হামলার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য, পূর্বের হামলার সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগ এবং পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সব আসামির গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশাবাদী, চলমান তদন্তের মাধ্যমে অচিরেই পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.