নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরে পুলিশের এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে সুদের কারবার পরিচালনা, ব্যবসায়ীদের সাদা চেক ও স্ট্যাম্পে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শানীনূর আলম ওরফে শাহীন বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা জোনের সিটিএসবিতে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার কৈলং গ্রামের বাসিন্দা শানীনূর আলম গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সাবেক সদস্য। চাকরির সময় তিনি একাধিক পুলিশ কমিশনারের বডিগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গাজীপুরের নাটা রোড এলাকায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, সালনা এলাকায় প্রায় ৫ কাঠা জমি এবং নেত্রকোনায় পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় উচ্চ সুদে টাকা লগ্নির একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঋণ দেওয়ার সময় প্রতি লাখে সাদা স্বাক্ষর করা চেক, অতিরিক্ত চেক এবং খালি স্ট্যাম্প জামানত হিসেবে নেওয়া হতো। পরে সুদ ও আসল পরিশোধ হলেও এসব কাগজ ফেরত না দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি সুদসহ পরিশোধ করলেও তার জমা রাখা চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে সেই চেক ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
এছাড়া একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এ চক্রের কারণে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কনস্টেবল শানীনূর আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.