মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ এলাকার বোরো ধান চাষিরা এবার বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জলাবদ্ধ বিলাঞ্চলের অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি ও মৎস্য ঘেরে সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে দেরিতে হলেও বোরো আবাদ করেছিলেন কৃষকেরা। ভালো ফলনের আশা থাকলেও ঝড়-বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুলটিয়া ইউনিয়নের লখাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক গোলক সরকার ধারদেনা করে আড়াই বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি কাঠা প্রতি দুই মণ ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু এখন ঝড়-বৃষ্টিতে ধান ক্ষেতে পড়ে যাচ্ছে এবং অনেক ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক সংকট ও বেশি মজুরির কারণে নিজেই কাঁধে করে ধান ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।
একই এলাকার মনোহরপুর গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন জানান, চার বিঘা জমিতে ভালো ফলন হলেও বৃষ্টির পানিতে ধান ভেসে যাচ্ছে। ধারদেনা করে করা এই আবাদ এখন লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছে বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
নেহালপুর ইউনিয়নের কৃষক সদানন্দ কর্মকার বলেন, ঝড়ে ধান ক্ষেত পড়ে গেছে এবং জমিতে পানি জমে থাকায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মনিরামপুরের কুলটিয়া, হরিদাসকাটি, নেহালপুর, মনোহরপুর, ঢাকুরিয়া, দূর্বাডাঙ্গা ও খানপুরসহ ভবদহ এলাকার বিলাঞ্চলে বিল বোঁকড়, বিল কেদারিয়া, আড়পাতার বিল, হরিণার বিল ও বিল শালিখাসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ বিল থেকে পানি নিষ্কাশন করে কৃষকেরা বোরো আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা ঝড়-বৃষ্টিতে তাদের কষ্টের ফসল এখন হুমকির মুখে।
কুলটিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেখা বিশ্বাস জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে অনেক কৃষক এখনো ধান পুরোপুরি কাটেননি। আবহাওয়া কিছুটা উন্নতি হলে দ্রুত ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিরূপ আবহাওয়ায় ভবদহ অঞ্চলের কৃষকেরা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.