রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
রামপালের সিংগড়বুনিয়া গ্রামে সরকারী প্রবহমান চামারখালী খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় এলাকাবাসী খালটির বাঁধ দ্রুত অপসারণের দাবীতে লিখিতভাবে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দীর্ঘ মাস গত হলেও খালের অপসারণ না করায় হতাশ হয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের (৪ নং ওয়ার্ড) সিংগড়বুনিয়া গ্রামের ভেতর দিয়ে চামারখালী খালটি জোয়ার-ভাটা প্রবণ প্রবহমান একটি খাল। খালে জোয়ারের পানি প্রবহমান থাকায় মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলটির নাব্যতায় বেশ প্রভাব ফেলছে। বিগত সময়ে সরকারী অর্থায়নে খালটি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়। দেড় মাস পূর্বে এককালের আওয়ামী লীগের সমর্থক ওহিদুজ্জামান আকু্ঞ্জী স্থানীয় নেতা মোতাহার আলীর সহযোগীতায় খালটিতে বাঁধ দেয়। এতে জোয়ার-ভাটার প্রবহমান খালটির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ছে মোংলা ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের উপর।
এ ছাড়াও এলাকার বহু মৎসজীবির একমাত্র আয়ের উৎস এ খালটি একবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এককালের চিহ্নত আওয়ামী লীগের বিটিম ঈগল মার্কার নির্বাচনি কার্যক্রম চালানো ওহিদুজ্জামান এখন রাতারাতি সরকার দলীয় নেতা সাজার চেষ্টা করছে। সিংগড়বুনিয়া গ্রামের মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অহিদ দলের কেউ না। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এখন খালে বাঁধ দিয়েছে। এতে দলের বদনাম হচ্ছে।
গত রবিবার কতিপয় লোকজন ডেকে কথিত মানববন্ধন করে দখলবাজ ওহিদ আকু্ঞ্জী। সে দাবী করে বলে, স্থানীয় সিংগড়বুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় যে কারণে বাঁধ দেয়া হয়েছে। এমন দাবি আদৌ সত্য নয় মর্মে অভিযোগ করেন সিংগড়বুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাওলাদার কামরুজ্জামান।
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন খাল খনন করলেও রামপালে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সরকারি খাস খাল বেঁধে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালীরা। খালের বাঁধে নিয়ে কেউ কোন কথা বললে বা বাঁধ কাটার চেষ্টা করলে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে মোতাহার আলীর বিরুদ্ধে। তারা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওহিদুজ্জামান আকু্ঞ্জীর কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, মানুষের বাড়িতে ও স্কুলে পানি উঠে যায়, সে জন্যে সে খাল বেঁধে রেখে মাছ চাষ করছে। স্থানীয় নেতা মোতাহার আলীর কাছে জানতে চাইলে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সে বলে, জনগণের স্বার্থে খালে বাঁধ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী এর দৃষ্টি আকর্শন করা হলে তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এর নির্দেশক্রমে প্রতিদিনই উপজেলার সরকারি খালের বাঁধ অপসারণ করে দখলমুক্ত করা হচ্ছে। পরিবেশ প্রতিবেশ ও নদী-খালের প্রবাহ ঠিক রাখতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.