যশোর প্রতিনিধি
যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চরম ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীদের হাতে মিলছে শুধু প্রেসক্রিপশন—সরকারি ফার্মেসিতে নেই প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী প্রতিদিন খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই হাজার এবং অভ্যন্তরীণ ওয়ার্ডে আরও প্রায় সাড়ে সাতশ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন ওমিপ্রাজল, এন্টাসিড, মন্টিলুকাস্ট ও অ্যান্টিবায়োটিক সেফিক্সিমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। এতে চিকিৎসা সেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে প্রচণ্ড গরমে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, হামসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এমন সময়ে হাসপাতালে ওষুধ না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেকেই বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের স্টোর ও ফার্মেসি বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল লিমিটেড থেকে সরবরাহকৃত ওষুধের মজুদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। নতুন বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত সেখান থেকে আর ওষুধ পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে, টেন্ডারের মাধ্যমে ওষুধ ক্রয়ের প্রক্রিয়াও জটিলতায় পড়েছে। প্রথম দফার টেন্ডার বাতিল হওয়ায় নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যা এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের কিছু ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের অনিয়ন্ত্রিতভাবে ওষুধ গ্রহণের কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সরকারি ওষুধ বণ্টনে অনিয়ম থাকায় সাধারণ রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, “নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে ওষুধ সংকট কিছুটা কমবে।” তবে সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক কোনো বিকল্প ব্যবস্থা আছে কিনা—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।
সার্বিকভাবে, যশোর সদর হাসপাতালের এই ওষুধ সংকট জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.