যশোর প্রতিনিধি
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া-সাতমাইল পশুহাটের সাম্প্রতিক ইজারা মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই পশুহাটটি চলতি বছরে মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গত ২৯ এপ্রিল উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে এক বছরের জন্য হাটটির ইজারা পান কুদ্দুস আলী বিশ্বাস। অথচ ১৪৩০ বঙ্গাব্দে একই হাটের ইজারা মূল্য ছিল ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তার আগের বছরগুলোতেও হাটটির ইজারা মূল্য ছিল কয়েক কোটি টাকার বেশি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩১ ও ১৪৩২ বঙ্গাব্দে ইজারা প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় খাস আদায়ের মাধ্যমে হাট পরিচালিত হয়। তবে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কারণে ব্যবসায়ীরা হাটে আসতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সেই সময়েও রাজস্ব আদায় কম হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রতিযোগিতা কমিয়ে ইজারার দর নামিয়ে এনেছে। এতে করে প্রকৃত দরদাতারা অংশ নিতে পারেননি এবং সরকার বঞ্চিত হয়েছে বড় অঙ্কের আয় থেকে।
হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, সাতমাইল পশুহাটটি দীর্ঘদিন ধরেই লাভজনক একটি বাজার হিসেবে পরিচিত। ১৪২৮ সালে এর ইজারা ছিল প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা, ১৪২৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকায়। সেই তুলনায় বর্তমান ইজারা মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এদিকে অতীতে ইজারাবিহীন সময়ে হাট পরিচালনা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছুদিন হাট বন্ধও রাখা হয়।
বর্তমান ইজারাদার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই সর্বোচ্চ দর দিয়ে হাটটি নিয়েছেন। তার মতে, আগে ভারতীয় গরু আসার কারণে ব্যবসা ভালো ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। তবে এবার প্রতি হাটে সরকারের আয় আগের তুলনায় কিছুটা বাড়বে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “এবার সাতজন দরপত্রে অংশ নিলেও সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে অনেকেই অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন। গত বছর খাস আদায়ে প্রতি হাটে প্রায় ৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা আদায় হয়েছিল।”
সব মিলিয়ে, সম্ভাবনাময় এই বৃহৎ পশুহাটের ইজারা মূল্য হঠাৎ কমে যাওয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.