শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী (বাগেরহাট)
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চিতলমারীতে বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চাষিরা। প্রতিদিন ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। কীভাবে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। বৈরি আবহাওয়ার কারণে অনেকেই ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে অনেকের ফসল জমিতে নুয়ে পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ অঞ্চলের মাঠের জমিতে চিংড়ি চাষের পাশাপাশি অধিকাংশ ঘেরের জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের চাষিরা আগাম ফসল চাষে সবসময়ই তৎপর থাকেন। এসব জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের পাশাপাশি কিছু দেশীয় জাতও রয়েছে। সাধারণত বৈশাখের শুরুতে ধান কাটা শুরু হলেও এ বছর কয়েক দফা বৃষ্টিতে কৃষকদের স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে।
প্রতিদিনের ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক স্থানে পাকা ধান ভিজে গিয়ে গজিয়ে উঠছে, আবার অনেক জমিতে ধান নুয়ে পড়ছে। এতে চাষিদের হতাশা বাড়ছে।
উপজেলার আড়য়াবর্ণি গ্রামের বোরো চাষি ইনু শেখ জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ৭ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। কিছু ধান কেটে জমিতে রেখে দিয়েছেন, যা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “ধানের বাজার দর খুবই কম—প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অথচ একজন ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। এ অবস্থায় কীভাবে ফসল ঘরে তুলব বুঝতে পারছি না।”
শ্যামপাড়া গ্রামের চাষি নির্মল মণ্ডল ও অসীম মণ্ডলসহ অনেকে জানান, প্রায় সব জমির ধানই পেকে গেছে। কেউ কেউ ধান কেটে বিপদে পড়েছেন। বৃষ্টিতে কাটা ধান ভিজে গজিয়ে যাচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এ বছর ধান চাষ করে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, এলাকায় উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ হয়েছে এবং এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল। তবে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.