নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় জাল বিএড সনদ ব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রানীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইয়েদা পারভিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার অপসারণের দাবিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অফিজ উদ্দীন মীর।
অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। আগামীকাল মঙ্গলবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন সরেজমিন তদন্তে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দৈনিক সমকাল ও দৈনিক চাঁদনী বাজার পত্রিকায় সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ১১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পরবর্তীতে ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় মাত্র দুইজন প্রার্থী উপস্থিত থাকলেও সাইয়েদা পারভিন পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরীক্ষাটি স্থগিত হয়।
এরপর একই বছরের ৩ ডিসেম্বর আবারও দৈনিক মানবজমিন ও দৈনিক সানশাহীন পত্রিকায় নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, পরে পূর্বের আবেদনকে ঘষামাজা করে এবং নতুনভাবে কিছু প্রার্থী যুক্ত করে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়োগকালে ২০০৬ সালে রয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড সম্পন্ন করার একটি সনদ ব্যবহার করা হয়, যার ভিত্তিতে ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি ফলাফল সিটে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে পরবর্তীতে বেতন-ভাতার এমপিওভুক্তির আবেদন একাধিকবার বাতিল হয়। এরপর ২০০৭ সালের বিএড সনদ ব্যবহার করার বিষয়টি সামনে এলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ২০২২ সালের ১৮ মে তৎকালীন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট বিএড সনদ জাল এবং অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়টি উঠে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষক অফিজ উদ্দীন মীর বলেন, “তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থেকে বিদ্যালয়ে নানা ধরনের অনিয়ম, হয়রানি, শোকজ ও বেতন কর্তনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় তাকে অপসারণ করা জরুরি।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইয়েদা পারভিন অসুস্থতার কথা জানিয়ে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.