রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বৈরাগীর খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এই খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টায় রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন ফলক উন্মোচন ও মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রতীকীভাবে মাটি পরিবহন করেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে বৈরাগীর খালের তিন কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে। এর জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭৬ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খালের পানি ফলিয়ার বিল হয়ে দুর্গাপুর উপজেলার হোজা নদীতে প্রবাহিত হবে, ফলে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সহজ হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেন, “খাল পুনঃখনন শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এতে কৃষকের সেচ সমস্যা ও জলাবদ্ধতা কমে কৃষিতে নতুন প্রাণ ফিরবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। ফসল উৎপাদন বাড়বে, একাধিক ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হবে এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে।”
সভাপতির বক্তব্যে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “খালটি কৃষি ও জনজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করবে। পাশাপাশি খাল রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয় কৃষক কদম আলী জানান, একসময় এই খাল কৃষির প্রধান পানির উৎস ছিল। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় তারা সেচ ও জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়েছিলেন। খাল পুনঃখনন হলে আবারো কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরেক কৃষক মুনতাজ আলী বলেন, “খাল চালু হলে বোরো, আমন ও সবজি চাষে সুবিধা হবে। জমি অনাবাদি পড়ে থাকার সমস্যা দূর হবে।”
পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী বলেন, খাল সচল থাকলে জলাবদ্ধতা কমবে, পরিবেশ উন্নত হবে এবং বসতবাড়ির ক্ষতি কমে আসবে। তিনি খাল রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পবা উপজেলার কৃষি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.