রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় মৌসুমের শেষ সময়ে টানা ভারী বৃষ্টিতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধানক্ষেত, নষ্ট হয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের আবাদ। এর সঙ্গে ধান কাটার শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরি কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খুলনায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৬৫ হাজার ৭৮ হেক্টরে। তবে মৌসুমের শেষদিকে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে অন্তত ৮৭৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমির বোরো খেত পানিতে ডুবে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে খুলনায় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত নয় বছরের মধ্যে এপ্রিলে এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মে মাসের শুরুতেও কয়েক দফা বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ডুমুরিয়ার শিংয়ের বিল, সাহাপুর, মধুগ্রাম এবং রূপসা উপজেলার বিল জাবুসা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক কৃষক ধান পাকলেও সময়মতো কাটতে পারেননি। আবার কোথাও কাটা ধান শুকানোর আগেই বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে।
এদিকে তেরখাদা, রূপসা ও ডুমুরিয়া উপজেলায় ধান কাটার শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শ্রমিকের অভাবে সময়মতো ধান কাটতে না পারায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। এসব এলাকায় শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জেলার অন্য এলাকাগুলোতেও শ্রমিকের মজুরি ছিল ৮০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে।
রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু ধান পাকতেই টানা বৃষ্টি শুরু হয়। পুরো বিল এলাকার জমি পানির নিচে চলে গেছে। অনেক জায়গায় ধানের শীষ থেকে ধান ঝরে পড়ছে। এখন ধান কেটে ঘরে তুললেও খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংকট এবার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করিয়েও সময়মতো ধান ঘরে তোলা যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতি আরও বেড়েছে।
ডুমুরিয়ার কৃষক সৈয়দ মোকাম্মেল হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমি দীর্ঘ সময় পানির নিচে ছিল। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। অনেকে ধান কেটেও সময়মতো ঘরে তুলতে পারেননি। বৃষ্টিতে সেই ধানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে বড় সংকটে পড়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করেছেন। এবার জেলায় হেক্টরপ্রতি গড়ে ৪ দশমিক ৭৪ টন চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.