নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আকবরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জনের পরও দীর্ঘ দুই বছর পার হলেও এখনো নিয়োগপত্র পাননি মো. সিফাতুল্লাহ্ নামের এক চাকরিপ্রার্থী। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি আকবরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদসহ মোট ছয়টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে মো. সিফাতুল্লাহ্ অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে আবেদন করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ২৬ এপ্রিল নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
নিয়োগ বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সিফাতুল্লাহ্ সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। নিয়োগ বোর্ডের রেজুলেশন ও ফলাফল শিটেও তাকে প্রথম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অন্যান্য পাঁচটি পদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে যোগদান করে বেতন-ভাতাও উত্তোলন করছেন। তবে শুধুমাত্র অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদটির নিয়োগ কার্যক্রম এখনো ঝুলে রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থী মো. সিফাতুল্লাহ্ অভিযোগ করে বলেন, “তৎকালীন বিদ্যালয় সভাপতি ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি মো. মাহাতাব উদ্দীনের নাতি মো. শহিদুজ্জামান ওই পদে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। তাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। আমি একাধিকবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও কোনো প্রতিকার পাইনি। বরং বিভিন্ন সময়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সাবেক সভাপতি তার নাতিকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে পদটি ঝুলিয়ে রাখেন। পরে ২০২৪ সালের ২৬ মে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেই। অভিযোগে নিয়োগ বোর্ডের ফলাফল, নম্বরপত্র ও অনিয়মের বিষয় তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
সিফাতুল্লাহ্ দাবি করেন, সরকার পরিবর্তনের পর বিদ্যালয়ের সভাপতির পরিবর্তন হলেও তার নিয়োগ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তার চাকরির বয়সসীমা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তিনি নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান এবং পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, “সে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে, এটা আমি জানি। তবে আমার জানামতে তাকে লিখিত পরীক্ষায় এক নম্বর কম দেওয়া হয়েছিল। ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ায় সে প্রথম হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে লিখিত পরীক্ষার খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করলে তিনি আরও তিন নম্বর বেশি পেতেন।”
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, “এই পদে দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থী উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন। তাই নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই মেনে নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.