আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি এলাকায় অবৈধ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ অধিদফতরের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দিনের পর দিন এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার তেঁতুলিয়া-সোনাই সড়কের মধ্যবর্তী তকিপুর এলাকায় চারটি বিশেষ চুল্লি নির্মাণ করে প্রতিদিন শত শত মন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এসব চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদন করা হলেও এ ধরনের কারখানা পরিচালনায় কোনো সরকারি অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শাহনগর গ্রামের বিপুল শাহর জমি বছরে ৬০ হাজার টাকা হারি নিয়ে বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের মৃত গহর গাজীর ছেলে আলী গাজী দীর্ঘদিন ধরে এ কয়লার চুল্লি পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুল্লি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া ফলদ গাছ, ফসলি জমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ও কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন মহলকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। চুল্লির মালিক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব অবৈধ কয়লার চুল্লি দ্রুত বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.