যশোর প্রতিনিধি
অভাব, একাকীত্ব আর জীবনের নানা বঞ্চনায় যখন শেষ বয়সে এসে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন আখিরন নেছা, তখন তার জীবনে আশার আলো হয়ে আসে যশোরের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘জয়তী সোসাইটি’। শুধু আখিরন নেছাই নন, এমন আরও চারশ’ অসহায় ও ভাগ্যাহত মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ‘ষাটোর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচি’।
সত্তরোর্ধ্ব আখিরন নেছা জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে জয়তী সোসাইটি তার খাবার, পোশাকসহ নানা প্রয়োজনের দায়িত্ব পালন করছে। স্বামীকে হারানোর পর দুই উপার্জনক্ষম সন্তানকেও হারিয়ে তিনি একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। বর্তমানে একটি মেয়ে থাকলেও সেও পরের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
আখিরন নেছা বলেন, “জয়তীর কারণে শেষ বয়সে এসে একটু সুখ পাচ্ছি। মাঝে মাঝে তারা পিকনিকে নিয়ে যায়, ভালো খাবার খাওয়ায়। এখন অনেক ভালো আছি।”
একইভাবে ‘ষাটোর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচি’র আওতায় থাকা করিমন বিবিও ফিরে পেয়েছেন জীবনের আলো। ছানি পড়ে প্রায় অন্ধ হয়ে যাওয়া এই বৃদ্ধার তিনটি অপারেশনের পুরো ব্যয় বহন করেছে জয়তী সোসাইটি।
তিনি বলেন, “আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। জয়তী সোসাইটি আমার চিকিৎসার সব খরচ দিয়েছে। এখন আমি আবার দেখতে পারছি।”
নারীদের অধিকার সচেতন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে জয়তী সোসাইটি। পরে “বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক বয়স্কদের জন্য নিরাপদ আনন্দ আশ্রম” স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৮ সালে শুরু হয় ‘ষাটোর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচি’।
শুরুতে মাত্র ১১৩ জন বৃদ্ধাকে নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে চারশ’ নারী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, কোনো মা-বাবাই পরিবার ছেড়ে বৃদ্ধাশ্রমে প্রকৃত মানসিক শান্তি পান না। তাই তাদের নিজ পরিবারেই সম্মান ও ভালোবাসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংস্থাটি।
জয়তী সোসাইটির তথ্যমতে, এই কর্মসূচির আওতায় মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সপ্তাহে তিন দিন ফিজিওথেরাপি, মেডিটেশন ও কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্যারালাইসিস বা স্ট্রোকে আক্রান্ত মায়েদের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। এছাড়া ছানি অপারেশনসহ জটিল চিকিৎসা, মাসিক আর্থিক সহায়তা, পুষ্টি ভাতা এবং পারিবারিক কাউন্সিলিংও প্রদান করা হয়।
ঈদ, পূজা ও মা দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে মায়েদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পোশাক ও মিষ্টি। তাদের একঘেয়েমি দূর করতে আয়োজন করা হয় গানের আসর, বনভোজন ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে মায়েরা যেন ফিরে পান হারিয়ে যাওয়া আনন্দের মুহূর্তগুলো।
জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাই না মা-বাবারা বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে কষ্ট পান। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। একজন মা তার নিজের বাড়িতেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করেন। তাই তাদের শেষ বয়সটা আনন্দময় করে তুলতে আমরা কাজ করছি।”
তিনি আরও জানান, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতা ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়েই এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.