যশোর প্রতিনিধি
দেশের অন্যতম বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক ‘সূর্যের হাসি’তে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অর্থ অপচয় ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অদক্ষ নেতৃত্ব, বিতর্কিত নিয়োগ এবং একের পর এক ক্লিনিক বন্ধের ফলে একসময় দেশের বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্যখাতে পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই শায়লা পারভীনকে সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে সরিয়ে দিয়ে নীতিমালা উপেক্ষা করে অনভিজ্ঞ ও স্বাস্থ্যখাতে কাজের অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। এমনকি নতুন পদ সৃষ্টি করে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীরা জানান, ডিজিএম (রেভিনিউ) পদে সিইও’র এক আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া মার্কেটিং বিভাগের এক কর্মকর্তাকে ধাপে ধাপে জিএম পদে উন্নীত করা হলেও তার কার্যকর অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। মানবসম্পদ বিভাগে অসুস্থ কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতিমালা প্রয়োগ, বেতন কর্তন ও চাকরিচ্যুতির ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কক্সবাজার, বাসাবো, তাজহাট, চাঁদপুর ও রামুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক বন্ধ অথবা দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। এছাড়া পিকেএস পরিচালিত ২১টি ক্লিনিকও বন্ধ করা হয়েছে, যেগুলো দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ক্লিনিক বন্ধের পাশাপাশি ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সম্পদ বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। যদিও প্রকল্প হস্তান্তরের সময় সম্পদ বিক্রির কোনো নির্দেশনা ছিল না বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন ক্লিনিকের চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। খুলনায় একটি ক্লিনিক বেনামে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ার অজুহাতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কমানো হলেও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিলাসী জীবনযাত্রা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অফিসের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, গাড়ি মেরামতের নামে অতিরিক্ত ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স ভিজিট এবং বনানী থেকে মহাখালীতে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরে বিপুল অর্থ অপচয়ের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত এক ব্রিগেডিয়ারকে জিএম অপারেশন পদে রেখে বিদেশ থেকে অনলাইনে ক্লিনিক বন্ধ ও মালামাল সরানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, ১৯৯৭ সাল থেকে পরিচালিত এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তারা মনে করেন, অভিজ্ঞ বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছে পুনরায় ক্লিনিক পরিচালনার দায়িত্ব দিলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
নবগঠিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা অবশিষ্ট ক্লিনিকগুলো রক্ষা এবং বন্ধ হওয়া ক্লিনিক পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সূর্যের হাসি’র সিইও শায়লা পারভীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.